‘আমার বোনের লাশ সৎকারে কেউ সহযোগীতা করেনি’

চিতলমারী (বাগেরহাট) থেকে অলোক কুমার »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিয়ের এক মাস সাত দিনের মধ্যে লাশ হতে হলো সাথী বিশ্বাসকে।নববধূর হাতের মেহেদীর রং মুছতে না মুছতেই স্বামী ও পরকিয়া প্রেমিকার হাতে জীবন দিতে হলো সাথীকে।

এ মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে এলাকাবাসীর মাঝে। লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় যারা দেখেছেন তাদের দাবি, মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

এ রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন তথ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের কয়েকজন নারী বলেন, সাথী মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ঘরের কাজ করছিল। সে দিন সকাল থেকে কয়েক বার রানাপাড়ার প্রেমিকা (মৌসাতো ভাইয়ের স্ত্রী) কনিকা মন্ডল প্রেমিক সুশেন মন্ডলের বাড়িতে আসে। কিছুক্ষণ পর ডাকাডাকি করে সাথীর কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিলে সাথীকে ঝুলন্ত আবস্থায় দেখতে পাই।

বৃদ্ধ হরিদাশ মন্ডল বলেন, লোকজনের চিৎকারে গিয়ে দেখি বারান্দার আঁড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া এবং হাঁটু ভাঁজ করে মাটির সঙ্গে লাগানো। কোন ভাবেই এটা আত্মহত্যা নয়। মেয়েটা ভালো ছিল। তাকে হত্যা করেছে। এ হত্যার সঠিক বিচার চাই। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিহত সাথীর মা ও বোন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মোবাইলে মেয়ের ছবি দেখে বলে আমার মেয়ের কাপড়ে চারটি গিট দেওয়া আবস্থায় ঝোলানো ছিল। এভাবে আত্মহত্যা করতে পারে না। জামাই ও কনিকা মিলে মেরেছে। আমার মেয়ে সংসার করতে পারল না।

উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু অশোক কুমার বড়াল বলেন, সুশেন ও কনিকার ব্যাপারে অনেক বার শালিশ করেছি। তারপরও সুশেন শোধরায় নি।

সাথীর ভাই বলেন, আমি সুশেনের নামে থানায় অভিযোগ করেছি বলে আমার বোনের লাশ বাড়িতে আনার পর সুশেনের কোন আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামের লোকজন সৎকার করতে সাহায্য করেনি।আমি, বাবা, মা, বোন ও আত্মীয়-স্বজনরা সুশেনের বাড়িতে সৎকার করি। আমার বোনকে যারা হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে তাদের বিচার চাই।

স্বামীর পরকীয়ার বলি নববধূ সাথী

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শরিফুল হক বলেন, লাশের সুরহাতাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »